দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
আগামী ৭-৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনকে সামনে রেখে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে ন্যাটোভুক্ত ৩২টি দেশের নেতাদের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
গুলের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় নিরাপত্তা থেকে সরে যেতে চায় না। বরং ইউরোপীয় মিত্র ও কানাডাকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়কে আমরা সংকট হিসেবে নয়, বরং পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি।’
তার ভাষ্য, ন্যাটো এখনো ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অতুলনীয় প্ল্যাটফর্ম।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে প্রতিরক্ষা ব্যয় ও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে বের করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা, যুদ্ধবিমান, জাহাজ ও অস্ত্র কমানোর উদ্যোগও নেয় ওয়াশিংটন। তবে গুলেরের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য জোট ত্যাগ নয়, বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আরও বেশি দায়িত্ব অর্পণ করা।
তিনি বলেন, আঙ্কারা ন্যাটোর মধ্যে দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টনকে সমর্থন করে। তবে জোটের ঐক্য ও ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখাই তুরস্কের প্রধান অগ্রাধিকার।
ইউরোপের প্রতিরক্ষা উদ্যোগে তুরস্ককে বাইরে রাখা কৌশলগতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন গুলের। তিনি বলেন, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ককে বাদ দিয়ে ইউরোপের প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।
প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের ন্যাটো লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তুরস্ক। ২০২৯ সালের মধ্যেই জোটের নির্ধারিত সামরিক সক্ষমতার লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে আঙ্কারার।
গুলের জানান, ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, নৌ প্রকল্প, মানববিহীন প্রযুক্তি এবং সাইবার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তুরস্ক। একই সঙ্গে দেশটির সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘স্টিল ডোম’ যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাট্রিয়ট’ এবং ফ্রান্স-ইতালির যৌথভাবে নির্মিত ‘স্যাম্প-টি’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সম্ভাবনাসহ সব বিকল্পই বিবেচনা করছে তুরস্ক। প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তিতে যে কোনো উদ্যোগে আঙ্কারা আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/